যাকাত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন ফতোওয়া জেনে নিন (১ম পর্ব)

শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, অতি দয়ালু।

n5lx3pud

মূলঃ শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল -উসাইমীন (রঃ)

(বই ফতোওয়া আরকানুল থেকে সংগৃহীত)

সংক্ষিপ্ত বর্ননাঃ সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর তাআলার জন্য যিনি আ্মাদেরকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টিকূলের সেরা জীব মানুষ হিসেবে এবং এই সুন্দর পৃথীবিতে পাঠিয়েছেন মুসলিম করে। সেই সাথে শান্তি বর্ষিত হউক নবী (ছাঃ) এর উপর যিনি দ্বীনকে এত সুন্দর করে আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন। একজন মানুষের জন্য ইসলামের জ্ঞান অর্জন ফরয ততটুকু যতটুকু দ্বীন পালন করতে প্রয়োজন হয়।আর এই দ্বীন অর্জন করতে হবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে । বই ফতোওয়া আরকানুল থেকে সংগৃহীত  কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ন  উত্তর জেনে নেই।

প্রশ্ন: (৩৫৫)প্রতিমাসে প্রাপ্য বেতনের যাকাত কিভাবে প্রদান করতে হবে?

উত্তর:এক্ষেত্রে সুন্দর পন্থা হচ্ছে, প্রথম বেতনের যদি এক বছর পূর্তি হয়; তবেতার সাথে সংশ্লিষ্ট করে সবগুলোর যাকাত আদায় করে দিবেযে বেতনে বছর পূর্ণহয়েছে তার যাকাত সময়ের মধ্যেই আদায় করা হলআর যাতে বছর পূর্ণ হয়নি তারযাকাত অগ্রিম আদায় হয়ে গেলপ্রতিমাসের বেতন আলাদা হিসাব রাখার চাইতেএটাই হচ্ছে সহজ পন্থাকিন্তু দ্বিতীয় মাসের বেতন আসার আগেই যদি প্রথমমাসের বেতন খরচ হয়ে যায়, তবে তার উপর কোন যাকাত নেইকেননা যাকাত ওয়াজিবহওয়ার শর্ত হচ্ছে বছর পূর্ণ হওয়া

প্রশ্ন: (৩৫৬)শিশু ও পাগলের সম্পদে কি যাকাত ওয়াজিব হবে?

উত্তর:বিষয়টি বিদ্বানদের মধ্যে মত বিরোধপূর্ণকেউ বলেন, নাবালেগ ও পাগলেরসম্পদে যাকাত ওয়াজিব নয়কেননা এরা তো শরীয়তের বিধি-নিষেধ মেনে চলারবাধ্যবাধকতার বাইরেঅতএব তাদের সম্পদে যাকাত আবশ্যক হবে না

কোনকোন বিদ্বান বলেন, বরং তাদের সম্পদে যাকাত আবশ্যক হবেআর এটাই বিশুদ্ধমতকেননা যাকাত সম্পদের অধিকারমালিক কে তা দেখার বিষয় নয়আল্লাহ্‌বলেন, خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةًতাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন (সূরা তাওবাঃ ১০৩) এখানে আবশ্যকতারনির্দেশ সম্পদে করা হয়েছেতাছাড়া মুআয বিন জাবাল (রা:)কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইয়ামান প্রেরণ করে বলেছিলেন,

أَعْلِمْهُمْأَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُمِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ

তাদেরকেজানিয়ে দিবে আল্লাহ্‌ তাদের সম্পদে যাকাত ফরয করেছেনধনীদের থেকে যাকাতগ্রহণ করে তাদের মধ্যে অভাবীদের মাঝে বিতরণ করা হবে[2] অতএব এ ভিত্তিতেনাবালেগ ও পাগলের সম্পদে যাকাত আবশ্যক হবেতাদের অভিভাবক এ যাকাত বের করারদায়িত্ব পালন করবেন

প্রশ্ন: (৩৫৭)প্রদত্ত ঋণের যাকাত আদায় করার বিধান কি?

উত্তর:সম্পদ যদি ঋণ হিসেবে অন্যের কাছে থাকে, তবে ফিরিয়ে না পাওয়া পর্যন্ততাতে যাকাত আবশ্যক নয়কেননা উহা তার হাতে নেইকিন্তু ঋণ গ্রস্থ ব্যক্তিযদি সম্পদশালী লোক হয়, তবে প্রতি বছর তাকে (ঋণ দাতাকে) যাকাত বের করতেহবেনিজের অন্যান্য সম্পদের সাথে তার যাকাত আদায় করে দিলে জিম্মা থেকেমুক্ত হয়ে যাবেঅন্যথা উহা ফেরত পাওয়ার পর হিসেব করে বিগত প্রত্যেকবছরের যাকাত আদায় করতে হবেকেননা উহা সম্পদশালী লোকের হাতে ছিলআর তাতলব করাও সম্ভব ছিলসুতরাং ঋণদাতার ইচ্ছাতেই চাইতে দেরী করা হয়েছে

কিন্তুঋণ যদি অভাবী লোকের হাতে থাকেঅথবা এমন ধনী লোকের হাতে যার নিকট থেকেউদ্ধার করা কষ্টকর, তবে তার উপর প্রতি বছর যাকাত আবশ্যক হবে নাকেননা উহাহাতে পাওয়া তার জন্য অসম্ভবকেননা আল্লাহ্‌ বলেন:

وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ

যদিঅভাবী হয় তবে তাকে সচ্ছলতা পর্যন্ত অবকাশ দিবে (সূরা বাক্বারাঃ ২৮০)অতএব তার জন্য সম্ভব নয় এ সম্পদ পুনরুদ্ধার করা এবং তা দ্বারা উপকৃতহওয়াকিন্তু পুনরুদ্ধার করতে পারলে বিদ্বানদের মধ্যে কেউ বলেন, তখন থেকেনতুন করে বছর গণনা শুরু করবেআবার কেউ বলেন, বিগত এক বছরের যাকাত বের করবেএবং পরবর্তী বছর আসলে আবার যাকাত আদায় করবেএটাই অত্যধিক সতর্ক অভিমত (আল্লাহই অধিক জ্ঞান রাখেন।(

প্রশ্ন: (৩৫৮)মৃত ব্যক্তির ঋণ কি যাকাত থেকে পরিশোধ করা যাবে?

উত্তর:ইবনে আবদুল বার্‌ ও আবু উবাইদা বলেন, বিদ্বানদের এজমা বা ঐকমত্য হচ্ছে, কোন সম্পদ রেখে যায়নি এমন অভাবী ঋণ গ্রস্থ মৃত ব্যক্তির ঋণ যাকাত দ্বারাপরিশোধ করা যাবে নাকিন্তু আসলে বিষয়টি মত বিরোধপূর্ণঅবশ্য অধিকাংশআলেম বলে থাকেন, যাকাত দ্বারা মৃতের ঋণ পরিশোধ করা যাবে নাকেননা মৃতব্যক্তি তো আখেরাতে পাড়ি জমিয়েছেঋণের কারণে জীবিত ব্যক্তি যে ধরণেরলাঞ্ছনা ও অবমাননার স্বীকার হয় মৃত ব্যক্তি এরূপ হয় নাতাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মৃতের ঋণ যাকাত থেকে আদায় করতেন না; বরং গনিমতের সম্পদ থেকে উক্ত ঋণ পরিশোধ করতেনএথেকে বুঝা যায় যাকাত থেকেমৃতের ঋণ পরিশোধ করা বিশুদ্ধ নয়

বলাহয়, মৃত ব্যক্তি যদি পরিশোধ করার নিয়ত রেখে ঋণ করে থাকে, তবে আল্লাহ্‌তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে তার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দিবেনকিন্তু গ্রহণ করারসময় পরিশোধের নিয়ত না থাকলে, অপরাধী হিসেবে তার জিম্মায় উহা অবশিষ্টথাকবে এবং কিয়ামত দিবসে তা পরিশোধ করবেআমার মতে এই মতটিই অধিক পছন্দনীয়যাকাত থেকে তার ঋণ পরিশোধ করার মতের চেয়ে

এমনওবলা হয়, প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে জীবিত ও মৃতের মধ্যে পার্থক্যকরতে হবেজীবিত লোকদের অভাব, ঋণ, জিহাদ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যদি যাকাতের অধিকপ্রয়োজনীয়তা থাকে, তবে তাদের বিষয়টি অগ্রগণ্যকিন্তু তাদের এধরণের কোনপ্রয়োজনীয়তা না থাকলে, সহায়-সম্বলহীন মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ঋণযাকাত দ্বারা পরিশোধ করতে কোন অসুবিধা নেইসম্ভবত: এটি মধ্যপন্থী মত

প্রশ্ন: (৩৫৯)ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির সদকা করা কি ঠিক হবে? ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি কোন ধরণের শরীয়তের দাবী থেকে মুক্তি পাবে?

উত্তর:শরীয়ত নির্দেশিত একটি খরচ হচ্ছে দান-সদকাসদকা জায়গা মত দেয়া হলে তাহবে আল্লাহ্‌র বান্দাদের উপর অনুগ্রহসাদকাকারী ছওয়াব পাবে, কিয়ামতদিবসে ছদকার ছায়ার নীচে অবস্থান করবেসদকা কবুল হওয়ার শর্ত পূর্ণ করেযাকেই দান করা হোক তার দান গ্রহণ করা হবেচাই দানকারী ঋণগ্রস্থ হোক বা নাহোকইখলাস বা একনিষ্ঠতার সাথে, হালাল উপার্জন থেকে জায়গা মত দান করলেইশরীয়তের দলীল অনুযায়ী তার দান কবুল হবেদানকারী ঋণমুক্ত হতে হবে এমন কোনশর্ত নেইকিন্তু কোন ব্যক্তি যদি এমন ঋণে ডুবে থাকে যা পরিশোধ করার জন্যতার সমস্ত সম্পত্তি দরকার, তবে এটা কোন যুক্তি সংগত ও বিবেক সম্মত কথা নয়যে, জরুরী ও আবশ্যক ঋণ পরিশোধ না করে সে নফল দান-সদকা করবে! অতএব তার উপরআবশ্যক হচ্ছে, প্রথমে ফরয কাজ করা তারপর নফল কাজ করাতারপরও ঐ অবস্থায়দান করলে তার ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেনকেউ বলেন, এরূপ করা জায়েজনয়কেননা এতে পাওনাদারের ক্ষতি করা হয় এবং নিজের জিম্মায় আবশ্যিক ঋণেরবোঝা বহন করে রাখা হয়আবার কেউ বলেন: দান করা জায়েজ আছে কিন্তু উত্তমতারবিপরীত

মোটকথা, যে ব্যক্তির আপাদমস্তক ঋণে জর্জরিত আর পরিশোধ করার জন্য নিজের সমস্থসম্পত্তি দরকার, তার পক্ষে দান্তসাদকা করা উচিত নয়কেননা নফল কাজের চাইতেওয়াজিব কাজের গুরুত্ব বেশী এবং তা অগ্রগণ্য

আর ঋণগ্রস্থ ব্যক্তি ঋণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত কোন্‌ ধরণের শরীয়তের দাবী থেকে মুক্তি পাবে?

তার মধ্যে একটি হচ্ছে হজ্জঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত ঋণগ্রস্থ ব্যক্তির উপর হজ্জের দায়িত্ব নেই বা হজ্জ ফরয নয়

কিন্তু যাকাতের ব্যাপারে বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেনঋণগ্রস্তের উপর থেকে যাকাতের আবশ্যকতা রহিত হবে কি হবে না?

একদল আলেম বলেছেন, ঋণ পরিমাণ সম্পদে যাকাতের আবশ্যকতা রহিত হবেচাই উক্ত সম্পদ প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য

আরেকদল আলেম বলেন, তার উপর কোন সময় যাকাতের আবশ্যকতা রহিত হবে নাহাতে যেসম্পদই থাক না কেন হিসেব করে তার যাকাত বের করতে হবেযদিও তার উপর এমন ঋণথাকে যা পরিশোধ করে দিলে অবশিষ্ট সম্পদ নেসাব পরিমাণ হয় না

অন্যদলআলেম বলেন, বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষতার সম্পদ যদি অপ্রকাশ্য ধরণের হয়যা প্রত্যক্ষ নয় গোপন থাকে, যেমন, টাকা-পয়সা এবং ব্যবসায়িক পণ্য, তবেতাতে ঋণ পরিমাণ সম্পদে যাকাত রহিত হবেআর সম্পদ যদি প্রকাশ্য ধরণের হয়, যেমন্ত পশু, জমিন থেকে উৎপাদিত ফসল ইত্যাদি, তবে তাতে যাকাত রহিত হবে না

আমারমতে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে: কোন সময়ই যাকাত রহিত হবে নাচাই সম্পদ প্রকাশ্যহোক বা অপ্রকাশ্যতার হাতে যে সম্পদ আছে তা যদি যাকাতের অন্তর্ভুক্ত হয়এবং নেসাব পরিমাণ হয়, তবে তার যাকাত দিতে হবেযদিও তার উপর ঋণ থাকেকেননা যাকাত হচ্ছে সম্পদের অধিকারআল্লাহ্‌ তাআলা এরশাদ করেন,

خُذْمِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّعَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

)হেনবী ) আপনি তাদের ধন-সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণ করুন, যা দ্বারা আপনি তাদেরকেপবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন, আর তাদের জন্য দুআ করুননিঃসন্দেহে আপনার দুহচ্ছে তাদের জন্য শাস্তির কারণআর আল্লাহ্‌ খুব শোনেন, খুব জানেন (সূরাতাওবাঃ- ১০৩) তাছাড়া মুআয বিন জাবাল (রা:)কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) ইয়ামান প্রেরণ করে বলেছিলেন,    

أَعْلِمْهُمْأَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُمِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
তাদেরকেজানিয়ে দিবে আল্লাহ্‌ তাদের সম্পদে যাকাত ফরয করেছেনধনীদের থেকে যাকাতগ্রহণ করে তাদের মধ্যে অভাবীদের মাঝে বিতরণ করা হবে[3] কুরআন-সুন্নাহ্‌রএই দলীলের ভিত্তিতে বিষয় দুটি আলাদা হয়ে গেলঅতএব যাকাত ও ঋণের মাঝেকোন দ্বন্দ্ব থাকল নাকেননা ঋণ হচ্ছে ব্যক্তির জিম্মায় আবশ্যকআর যাকাতসম্পদে আবশ্যকপ্রত্যেকটি বিষয় তার নির্দিষ্ট স্বস্থানে আবশ্যক হবেকেউকারো স্থলাভিষিক্ত হবে নাঅতএব ঋণ ব্যক্তির জিম্মায় বাকী থাকবেআর সময়হলে শর্ত পূর্ণ হলে অবশ্যই যাকাত বের করে দিবে
প্রশ্ন: (৩৬০)জনৈক ব্যক্তি চার বছর যাকাত আদায় করেনিএখন তার করণীয় কি?
উত্তর:যাকাত আদায়ে বিলম্ব করার কারণে এ লোক গুনাহ্‌গারকেননা মানুষের উপরওয়াজিব হচ্ছে যাকাত ওয়াজিব হওয়ার সাথে সাথে দেরী না করে যাকাত আদায় করেদেয়াআবশ্যিক বিষয়ের মূল হচ্ছে, সময় হওয়ার সাথে সাথে দেরী না করে তাসম্পাদন করে ফেলাএ লোকের উচিত আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, তওবাকরাতার উপর আবশ্যক হচ্ছে বছরগুলোর হিসেব করে যাকাত আদায় করে দেয়াউক্তযাকাতের কোন কিছুই তার থেকে রহিত হবে নাতাকে তওবা করতে হবে এবং দ্রুতযাকাত আদায় করে দিতে হবেযাতে করে দেরী করার কারণে গুনাহ্‌ আরও বাড়তে নাথাকে
প্রশ্ন: (৩৬১)বছরের অর্ধেক সময় পশু চারণ ভূমিতে চরে খেলে তাতে কি যাকাত দিতে হবে?
উত্তর:যে পশু বছরের পূর্ণ অর্ধেক সময় চারণ ভূমিতে চরে খায় তাতে যাকাত দিতে হবেনাকেননা পশু সায়েমা না হলে তাতে যাকাত ওয়াজিব হয় নাসায়েমা সেইপশুকে বলা হয়, যা বছরের পূর্ণ সময় বা বছরের অধিকাংশ সময় মাঠে-ঘাটে চরেবেড়ায় ও তৃণ-লতা খেয়ে বড় হয়কিন্তু বছরের কিছু সময় বা অর্ধেক সময়চরে খেলে তাতে যাকাত আবশ্যক নয়অবশ্য যদি উহা ব্যবসার জন্য হয়ে থাকে, তখন তার বিধান ভিন্নব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে যাকাত বের করতে হবেবছরপূর্ণ হলে মূল্য নির্ধারণ করে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) হারে যাকাত বের করবে
বাড়ী-ঘরের আশেপাশে ফলদার বৃক্ষের ফলের যাকাত
প্রশ্ন: (২৬২)তিন বছর আগে আমি বাড়ী ক্রয় করেছি। (আল্‌ হামদু লিল্লাহ্‌) বাড়ীরসীমানার মধ্যে তিনটি খেজুর গাছ আছেপ্রত্যেক গাছে প্রচুর পরিমাণে খেজুরপাওয়া যায়এ খেজুরে কি যাকাত দিতে হবে? যাকাত দেয়া ওয়াজিব হয়ে থাকলেতো এ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অজ্ঞ
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে: 
১)খেজুরগুলো নেসাব পরিমাণ হল কি না তা জানার উপায় কি? আমি তো বিভিন্ন সময় খেজুর পেড়ে থাকি?
২)কিভাবে যাকাতের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে? প্রত্যেক প্রকার খেজুরের যাকাতকি আলাদাভাবে বের করতে হবে? নাকি সবগুলো একত্রিত করে যে কোন এক প্রকার থেকেযাকাত দিলেই চলবে?
৩)খেজুর থেকে যাকাত না দিয়ে এর বিনিময় মূল্য দিলে চলবে কি?
৪)বিগত বছরগুলোতে তো যাকাত বের করিনিএখন আমি কি করব?
উত্তর:বাড়ির আশে পাশে খেজুর গাছে প্রাপ্ত খেজুর থেকে যে যাকাত আবশ্যক হতে পারে এব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ জ্ঞান রাখে না প্রশ্নকারীর একথা সত্য ও সঠিককারোবাড়িতে সাতটি কারো দশটি কারো কম বা বেশী সংখ্যার গাছ থাকেএগুলোর ফলনেসাব পরিমাণও হয়ে যায়কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না যে এতেও যাকাত দিতেহবেতাদের ধারণা যে, বাগানের খেজুরেই শুধু যাকাত দেয়া লাগবেঅথচ খেজুরবৃক্ষ বাগানে হোক বা বাড়ীতে হোক, উৎপাদিত ফসল নেসাব পরিমাণ হলেই তাতেযাকাত দিতে হবেএই ভিত্তিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন মানুষ অনুমান করবে, গাছগুলোতে যাকাতের নেসাব পরিমাণ খেজুর আছে কি না? যদি নেসাব পরিমাণ হয় তবেকিভাবে যাকাত দিবে সে তো বিভিন্ন সময় ফল পেড়ে খেয়ে থাকে?
আমিমনে করি, এ অবস্থায় খেজুরের মূল্য নির্ধারণ করবে এবং পূর্ণ মূল্যের একবিশমাংশ যাকাত হিসেবে বের করবেকেননা এ পদ্ধতি মালিকের জন্য যেমন সহজতেমনি অভাবীদের জন্যও উপকারীএতে যাকতের পরিমাণ হবে ৫% (শতকরা পাঁচ) টাকাকেননা ইহা হচ্ছে ফসলের যাকাত ব্যবসায়িক পণ্যের যাকাত নয়কিন্তুঅন্যান্য সম্পদ যদি হয় যেমন্ত স্বর্ণ-রৌপ্য, টাকা-পয়সা, তবে তাতে যাকাতেরপরিমাণ হচ্ছে ২.৫% (শতকরা আড়াই) টাকা
আরঅজ্ঞতা বশত: বিগত যে কয় বছরের যাকাত আদায় করেনি, তার জন্য অনুমান করেসর্বমোট একটা পরিমাণ নির্ধারণ করবে, তারপর তার যাকাত এখনই আদায় করে দিবেআর যাকাত আদায় করতে এই দেরীর কারণে তার কোন গুনাহ্‌ হবে নাকেননা সে ছিলঅজ্ঞকিন্তু বিগত বছরগুলোর যাকাত অবশ্যই আদায় করতে হবে
প্রশ্ন: (৩৬৩)স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাতের নেসাব কি? আর কিলোগ্রাম হিসেবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর ছাএর পরিমাণ কত?
উত্তর:স্বর্ণের নেছাব হচ্ছে বিশ মিসকাল তথা ৮৫ পঁচাশি গ্রাম
আর রৌপ্যের নেছাব হচ্ছে ১৪০ (একশ চল্লিশ) মিসকাল তথা সৌদি আরবের রৌপ্যের দিরহাম অনুযায়ী ৫৬ রিয়ালঅর্থাৎ ৫৯৫ গ্রাম
আরকিলোগ্রাম হিসেবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ছাএরপরিমাণ হচ্ছে, দুকিলো চল্লিশ গ্রাম (২.৪০ কেজি) পাকা পুষ্ট গম
প্রশ্ন: (৩৬৪)মেয়েদেরকে দেয়া স্বর্ণ একত্রিত করলে নেসাব পরিমাণ হয়একত্রিত না করলে নেসাব হয় নাএ অবস্থায় করণীয় কি?
উত্তর:কোন মানুষ যদি গয়নাগুলো তার মেয়েদেরকে ধার স্বরূপ শুধুমাত্র পরিধান করারজন্য দিয়ে থাকে, তবে সেই তার মালিকসবগুলো একত্রিত করে যদি নেসাব পরিমাণহয় তবে যাকাত প্রদান করবেকিন্তু যদি তাদেরকে সেগুলো দান স্বরূপ প্রদানকরে থাকে অর্থাৎ মেয়েরাই সেগুলোর মালিক, তবে গয়নাগুলো একত্রিত করা আবশ্যকনয়কেননা প্রত্যেকেই আলাদাভাবে স্বর্ণগুলোর মালিকঅতএব তাদের একজনেরস্বর্ণ যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তবেই যাকাত প্রদান করবেঅন্যথায় নয়
প্রশ্ন: (৩৬৫)নিজের প্রদত্ত যাকাত থেকে গ্রহীতা যদি উপহার স্বরূপ কিছু প্রদান করে, উহা কি গ্রহণ করা যাবে?
উত্তর:যাকাতের হকদার কোন ব্যক্তি যদি প্রাপ্ত যাকাত থেকে প্রদানকারীকে কিছুহাদিয়া বা উপহার স্বরূপ দেয়, তবে উহা নিতে কোন বাধা নেইকিন্তু তাদেরমাঝে যদি পূর্ব থেকে কোন গোপন সমঝোতা হয়ে থাকে তবে তা হারামএই কারণে তারউক্ত হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ না করাই উত্তম
প্রশ্ন: (৩৬৬)সম্পদের যাকাতের পরিবর্তে কাপড় ইত্যাদি প্রদান করা কি জায়েজ হবে?
উত্তর:না, তা জায়েজ হবে না
প্রশ্ন: (৩৬৭)স্বর্ণের সাথে মূল্যবান ধাতু হীরা প্রভৃতি থাকলে কিভাবে স্বর্ণের যাকাত দিবে?
উত্তর:অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ উহা নির্ধারণ করবেস্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণকারেরকাছে গিয়ে পরিমাণ জেনে নিবেএখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ আছে তা নেসাব পরিমাণহয় কি না? নেসাব পরিমাণ না হলে যাকাত নেইতবে তার কাছে অন্য স্বর্ণ থাকলেতা দ্বারা নেসাব পূর্ণ করে হিরা প্রভৃতি মিশ্রিত স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণকরে তা থেকে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) হারে যাকাত আদায় করবে
প্রশ্ন: (৩৬৮)যাকাতের অর্থ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করার বিধান কি? ফকীর বা অভাবী কাকে বলে?
উত্তর:যাকাতের জন্য আল্লাহ তাআলা যে আট শ্রেণীর কথা কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তাছাড়া অন্য কোন খাতে যাকাত প্রদান করা জায়েজ নয়কেননা আল্লাহ তাআলাআয়াতেإنماঅব্যয় দ্বারা যাকাত প্রদানের খাতকে আট শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেনতিনি বলেন,
]إِنَّمَاالصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَاوَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِيسَبِيلِ اللَّهِ وَاِبْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنْ اللَّهِ وَاللَّهُعَلِيمٌ حَكِيمٌ[
যাকাততো হচ্ছে শুধুমাত্র গরীবদের এবং অভাব গ্রস্থদের আর এই যাকাত আদায়ের জন্যনিযুক্ত কর্মচারীদের এবং ইসলামের প্রতি তাদের (কাফেরদের) হৃদয় আকৃষ্টকরতে, ঋণ পরিশোধে, আল্লাহর পথে জিহাদে, আর মুসাফিরদের সাহায্যেএ বিধানআল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিতআর আল্লাহ মহাজ্ঞানী অতি প্রজ্ঞাময়। (সূরাতওবাঃ ৬০)
সুতরাংতা মসজিদ নির্মাণের কাজে বা জ্ঞানার্জনের কাজে খরচ করা জায়েজ হবে নাআরনফল সদকা সমূহের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে যেখানে বেশী উপকার পাওয়া যাবেসেখানে প্রদান করা
ফকীরেরসংজ্ঞা হচ্ছে: সস্থান ও কাল ভেদে যার কাছে পূর্ণ এক বছরের নিজের ওপরিবারের খরচ পরিমাণ অর্থ না থাকবে তাকে বলা হয় ফকীরস্থান-কাল ভেদেএজন্য বলা হয়েছে, হয়তো কোন কালে বা কোন সস্থানে এক হাজার রিয়ালেরঅধিকারীকে ধনী বলা হয়আবার কোন কালে বা কোন সস্থানে এটা কোন সম্পদই নয়কেননা সে সময় বা সস্থানে জীবন ধারণের উপকরণ খুবই চড়া মূল্যের
প্রশ্ন: (৩৬৯)ভাড়া বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত গাড়ীতে কি যাকাত আবশ্যক?
উত্তর:ভাড়ার কাজে মানুষ যে গাড়ী ব্যবহার করে অথবা নিজের ব্যক্তিগত কাজে যেগাড়ী ব্যবহার করা হয় তার কোনটাতেই যাকাত নেইতবে প্রাপ্ত ভাড়া যদিনেসাব পরিমাণ হয় বা তা অন্য অর্থের সাথে মিলিত করে তা নেসাব পরিমাণ পৌঁছেএবং এক বছর অতিক্রান্ত হয় তবে তাতে যাকাত দিতে হবেঅনুরূপভাবে ভাড়ায়ব্যবহৃত জমি বা ভূমিতে যাকাত নেইতার প্রাপ্ত ভাড়া থেকে যাকাত দিতে হবে
প্রশ্ন: (৩৭০)ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ীর যাকাত দেয়ার বিধান কি?
উত্তর:ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ী যদি ভাড়ার জন্যই নির্মাণ করা হয়ে থাকে তবেবাড়ীর মূল্যে কোন যাকাত নেইতবে বাড়ী থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার যাকাত দিতেহবে, যদি ভাড়া দেয়ার দিন থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর বছর পূর্ণ হয়ভাড়ারচুক্তি নামা স্বাক্ষর করার দিন থেকে যদি বছর পূর্ণ না হয় তবে তাতে যাকাতনেইযেমন বছরে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা প্রদানের চুক্তিতে ঘর ভাড়া দেয়াহলচুক্তির শুরুতে পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করে উহা খরচ হয়ে গেলঅবশিষ্টপাঁচ হাজার টাকা বছরের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রহণ করে উহাও বছর পূর্ণ হওয়ারআগেই খরচ হয়ে গেল, তবে এক বছরে প্রাপ্ত দশ হাজার টাকার এই ভাড়ার মধ্যেকোন যাকাত দিতে হবেনাকেননা এই অর্থে বছর পূর্ণ হয়নি
কিন্তুবাড়ীটি যদি ব্যবসার জন্য নির্মাণ করে মূল্য বৃদ্ধি বা লাভের অপেক্ষায়থাকে এবং বিক্রি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে, তবে উক্ত বাড়ীরমূল্যে যাকাত দিতে হবে এবং ভাড়ারও যাকাত দিতে হবে যখন বছর পূর্ণ হবে।।কেননা উহা ব্যবসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছেনিজ মালিকানায় থেকে যাওয়া বাতা থেকে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়আর এমন প্রত্যেক বস্তু যা ব্যবসা বাউপার্জনের উদ্দেশ্যে প্রস্তত করা হয় তাতেই যাকাত রয়েছেকেননা নবী (সা:)বলেন, প্রত্যেকটি কর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীলআর মানুষ যা নিয়ত করে তাইরয়েছে তার জন্য।”[4]
এইব্যক্তির নিকট উপার্জনের জন্য যে সম্পদ রয়েছেতার লক্ষ্য তো বস্তুটিরমূল্যের প্রতি- মূল বস্তু নয়আর উহার মূল্য হচ্ছে দিরহাম বা টাকা বা নগদঅর্থ আর নগদ অর্থে বা টাকা-পয়সায় যাকাত ওয়াজিবঅতএব যে গৃহ ব্যবসারউদ্দেশ্যে করা হয়েছে বছর শেষে তার মূল্য নির্ধারণ করে তাতে এবং উহা যদিভাড়ায় থাকে তবে ভাড়ার চুক্তির দিন থেকে বছর পূর্ণ হলে তাতেও যাকাত দিতেহবে
বসবাসের উদ্দেশ্যে জমিন খরিদ করার পর উহা দ্বারা ব্যবসা করার ইচ্ছা করলে তার যাকাত
প্রশ্ন: (৩৭১)জনৈক ব্যক্তি বসবাসের উদ্দেশ্যে একটি জমিন খরিদ করেছেতিন বছর পর সে উহাদ্বারা ব্যবসা করার ইচ্ছা করলএখন উক্ত তিন বছরের কি যাকাত দিতে হবে?
উত্তর:বিগত বছরগুলোর জন্য কোন যাকাত ওয়াজিব হবেনাকেননা সে তো বসবাসের জন্যউহা খরিদ করেছিলকিন্তু ব্যবসা ও উপার্জনের নিয়ত করার সময় থেকেই বছরেরহিসাব শুরু করতে হবেযখন বছর পূর্ণ হবে তখনই তাতে যাকাত আবশ্যক হবে
প্রশ্ন: (৩৭২)রামাযানের প্রথম দশকে যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করার বিধান কি?
উত্তর:যাকাতুল ফিতর শব্দটির নামকরণ করা হয়েছে রোযা ভঙ্গকে কেন্দ্র করেরোযাভঙ্গ বা শেষ করার কারণেইউক্ত যাকাত প্রদান করা আবশ্যকসুতরাং উক্তনির্দিষ্ট কারণের সাথেই সংশ্লিষ্ট রাখতে হবে, অগ্রিম করা চলবে নাএকারণেফিতরা বের করার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে ঈদের দিন নামাযের পূর্বেকিন্তু ঈদেরএকদিন বা দুদিন আগে তা আদায় করা জায়েজকেননা এতে প্রদানকারী ওগ্রহণকারীর জন্য সহজতা রয়েছেকিন্তু এরও আগে বের করার ব্যাপারেবিদ্বানদের প্রাধান্য যোগ্য মত হচ্ছে তা জায়েজ নয়এই ভিত্তিতে ফিতরাআদায় করার সময় দুটি: 
১)জায়েজ বা বৈধ সময়তা হচ্ছে ঈদের একদিন বা দুদিন পূর্বে 
২)ফযীলতপূর্ণ উত্তম সময়তা হচ্ছে ঈদের দিন ঈদের নামাযের পূর্বেকিন্তুনামাযের পর পর্যন্ত দেরী করে আদায় করা হারামফিতরা হিসেবে কবুল হবেনাইবনে আব্বাসের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ
নামাযেরপূর্বে যে উহা আদায় করে তার যাকাত গ্রহণযোগ্যআর যে ব্যক্তি নামাযের পরআদায় করবে তার জন্য উহা একটি সাধারণ সাদ্‌কা বা যাকাত হিসেবে গণ্যহবে[5]
তবেকোন লোক যদি জঙ্গল বা মরুভূমি বা এ ধরণের জন মানবহীন কোন সস্থানে থাকারকারণে ঈদের দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং ঈদের নামায শেষ হওয়ার পর সেসম্পর্কে অবগত হয়, তবে ঈদের পর ফিতরা আদায় করলেও তার কোন অসুবিধা হবে না

প্রশ্ন: (৩৭৩)সাদ্‌কার নিয়তে বেশী করে ফিতরা আদায় করা জায়েজ হবে কি?
উত্তর:হ্যাঁ, বেশী করে ফিতরা আদায় করা জায়েজফিতরার অতিরিক্ত বস্তু সাদ্‌কারনিয়তে প্রদান করবেযেমন আজকাল বহু লোক এরূপ করে থাকেমনে করুন একজন লোকদশ জনের ফিতরা আদায় করবেএই উদ্দেশ্যে সে এক বস্থা চাউল খরিদ করে যাতে দশজনের অধিক ব্যক্তির ফিতরা আদায় করা যাবেঅতঃপর উহা নিজের পক্ষ থেকে এবংনিজ পরিবারের পক্ষ থেকে আদায় করেএটা জায়েজ যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায়যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বা তার চাইতে বেশী চাউল আছেবস্থার মধ্যে নির্দিষ্টফিতরার পরিমাপ যদি জানা যায় তবে উহা আদায় করাতে কোন দোষ নেই
চাউল দ্বারা ফিতরা আদায় করা
প্রশ্ন: (৩৭৪)কতিপয় বিদ্বান মনে করেন, যে সমস্থ বস্তু দ্বারা ফিতরা দেয়ার কথা হাদিছেবর্ণিত হয়েছে, তা যেহেতু বর্তমানে পাওয়া যায়, তাই চাউল দ্বারা ফিতরাদেয়া বিধিসম্মত নয়এ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই?
উত্তর:একদল আলেম বলেন, হাদিসে উল্লেখিত পাঁচ প্রকার বস্তু: গম, খেজুর, যব, কিসমিস এবং পনীর- এগুলো যদি থাকে তবে অন্য বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায় করাজায়েজ হবে না
অন্যএকটি মত হচ্ছে উল্লেখিত বস্তু এবং অন্য যে কোন বস্তু এমনকি টাকা-পয়সাদ্বারাও ফিতরা আদায় করা বৈধপরস্পর বিরোধী দুটি মতবিশুদ্ধ কথা হচ্ছে:-মানুষের সাধারণ খাদ্য থেকে ফিতরা আদায় করা বৈধকেননা সহীহ্‌ বুখারীতেআবু সাঈদ খুদরী (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছেতিনি বলেন,
كُنَّانُخْرِجُ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَزكاة الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًامِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ
আমরারাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে এক ছাপরিমাণখাদ্য ফিতরা হিসেবে বের করতামখেজুর, যব, কিসমিস ও পনীরএ হাদিসে গমেরকথা উল্লেখ নেইতাছাড়া যাকাতুল ফিতরে গম দেয়া যাবে এরকম সুস্পষ্ট ওবিশুদ্ধ কোন হাদীস আমার জানা নেইকিন্তু তারপরও নিঃসন্দেহে গম দ্বারাফিতরা আদায় বৈধ
আবদুল্লাহ্‌ বিন আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিততিনি বলেন:
فَرَضَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَكَاةَ الْفِطْرِطُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةًلِلْمَسَاكِينِ
রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন রোজাদারকেঅনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র করার জন্য ও মিসকিনদের জন্য খাদ্যস্বরূপঅতএব মানুষের প্রচলিত খাদ্য থেকে ফিতরা বের করাই যথেষ্টযদিও উহাফিকাহ্‌বিদদের উক্তিতে উল্লেখিত পাঁচ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত না হয়কেননাএই প্রকার সমূহ যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে- চারটি ছিলযা নবী (সা:) এরযুগে মানুষের সাধারণ খাদ্য হিসেবে প্রচলিত ছিলঅতএব চাউল দ্বারা ফিতরাআদায় করা জায়েজবরং আমি মনে করি বর্তমান যুগে ফিতরা হিসেবে চাউলই উত্তমকেননা উহা সহজলভ্য ও মানুষের অধিক পছন্দনীয় বস্তুতাছাড়া বিষয়টিস্থানভেদে বিভিন্ন রকম হতে পারেহতে পারে গ্রামাঞ্চলে কোন কোন গোষ্ঠীরনিকট খেজুর অধিক প্রিয় খাদ্যতারা খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করবেকোনএলাকায় কিসমিস, কোন এলাকায় পনীর প্রিয় খাদ্য হতে পারে তারা তা দিয়েইফিতরা আদায় করবেপ্রত্যেক এলাকা ও সম্প্রদায়ের জন্য সেটাই উত্তম যেটাতেরয়েছে তাদের জন্য অধিক উপকার
মৃত ব্যক্তির ওছীয়তকৃত সম্পদে এবং ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত
প্রশ্ন: (৩৭৫)কারো নিকট যদি মৃত ব্যক্তির ওছীয়তকৃত সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থাকে এবং ইয়াতীমের কিছু সম্পদ থাকে, তাতে কি যাকাত দিতে হবে?
উত্তর:মৃত ব্যক্তির ছেড়ে যাওয়া সম্পদের উক্ত এক তৃতীয়াংশে কোন যাকাত নেইকেননা তার কোন মালিক নেইউহা তো অসীয়ত অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক কাজেব্যবহার করা হবেকিন্তু ইয়াতীমের অর্থ যদি নেসাব পরিমাণ হয় এবং বছরপূর্ণ হয় তবে তাতে যাকাত ওয়াজিব হবেইয়াতীমের অভিভাবক সেই যাকাত বেরকরবেবিদ্বানদের মতসমূহের মধ্যে বিশুদ্ধ মত হচ্ছে যাকাত ওয়াজিব হওয়ারজন্য প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া বা বিবেকবান হওয়া শর্ত নয়কেননা যাকাত সম্পদেওয়াজিব হয়

 

মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *