চারটি অঙ্গকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলেই ব্যভিচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়ঃ

প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না

শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে,যিনি পরম করুনাময় অসীম দয়ালু।

d

চারটি অঙ্গকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলেই ব্যভিচার থেকে রক্ষা পাওয়া যায়

কোন ব্যক্তি চারটি অঙ্গকে সঠিক ও শরীয়ত সম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই সত্যিকারার্থে সে অনেকগুলো গুনাহ বিশেষভাবে ব্যভিচার থেকে রক্ষা পতে পারে। তেমনিভাবে তার ধার্মিকতাও অনেকাংশে রক্ষা পাবে। আর তা হচ্ছেঃ

১) চোখ ও দৃষ্টিশক্তিঃ তা রক্ষা করা লজ্জাস্থানকে রক্ষা করার শামিল।

রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেনঃ

তোমাদের চোখ নিম্নগামী করো এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করো(আহমাদঃ ৫/৩২৩, হাকিম, ৪/৩৫৮ বায়হাক্বীঃ ৬/২৮৮)

হঠাৎ কোন হারাম বস্তুর উপর চোখ পড়ে গেলে তা তড়িঘড়ি ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বতীয়বার কিংবা একদৃষ্টি ওদিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না। রাসূল (ছাঃ) আলী (রাঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ

হে আলী বার বার দৃষ্টি ক্ষেপণ করো না। কারণ, হঠা দৃষ্টিতে তোমার কোন দোষ নেই। তবে ইচ্ছাকৃত দ্বিতীয় দৃষ্টি অবশ্যই দোষের ( আবূ দাঊদ ২১৪৯, তিরমিযীঃ ২৭৭৭)

রাসূল (ছাঃ) হারাম দৃষ্টিকে চোখের যেনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমনিভাবে কোন ব্যক্তির হাত, পা, মুখ. কান, মনও ব্যভিচার করে থাকে। তবে মারাত্মক ব্যভিচার হচ্ছে লজ্জাস্থানের ব্যভিচার। যাকে বাস্তবার্থেই ব্যভিচার বলা হয়।

রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেনঃ

নিশ্চই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্য যেনার কিছু অংশ বরাদ্দ করে রেখেছেন। যা সে অবশ্যই করবে। চোখের যেনা হচ্ছে অবৈধভাবে কারোর দিকে দৃষ্টি ক্ষেপণ, মুখের যেনা হচ্ছে অশ্লীল কথোপকথন, হাতো ব্যভিচর করে তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে হাত দিয়ে ধরা, পাও ব্যভিচার করে: তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে কোন ব্যভিচার সংঘটনের জন্য রওয়ানা করা, মুখও ব্যভিচার করে তবে তার ব্যভিচার হচ্ছে অবৈধভাবে কাউকে চুমু দেয়া, কানের ব্যভিচার হচ্ছে তখনই লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়িত করে অথবা করে না ( আবূ দাঊদঃ ২১৫২, ২১৫৩, ২১৫৪)

দৃষ্টিউ সকল অঘটনের মূল। কারণ, কোন কিছু দেখার পরই তো তা মনে জাগে। মনে জাগলে তার প্রতি চিন্তা আসে। চিন্তা আসলে অন্তরে তাকে পাওয়ার কামনা বাসনা জন্মে। কামনা-বাসনা জন্মিলে তাকে পাওয়ার খুব ইচ্ছে হয়। দীর্ঘ দিনের ইচ্ছে প্রতজ্ঞার রুপ ধারণ করে। আর তখনই কোন কর্ম সংঘটিত হয়। যদি পথিমধ্যে কোন ধরনের বাধা না থাকে। দৃষ্টির কুফল হচ্ছে আফসোস, ঊর্ধ্বশ্বাস ও অন্তরজ্বালা। কারণ, মানুষ যা চায় তার সবটুকু সে কখনোই পায় না। আর তখনই তার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এই যে, দৃষ্টি হচ্ছে তীরের ন্যায়। অন্ত রকে নাড়া দিয়েই তা লক্ষ্যবস্তুতে পৌছায়। একেবারে শান্তভাবে নয়। আরো আশ্চর্যের কাহিনী এই যে, দৃষ্টি অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। আর এ ক্ষতের উপর অন্য ক্ষত (আবার তাকানো) সামান্যটুকু হলেও আরামপ্রদ। যার নিশ্চিত নিরাময় কখনোই সম্ভবপর নয়।

২) মন ও মনোভাবঃ এ পর্যায় খুবই কঠিন। কারণ, মানুষৈর মনই হচ্ছে ন্যায় অন্যায়ের একমাত্র উৎস। মানুষৈর ইচ্ছাম স্পৃহাম আশা ও প্রতিজ্ঞা মনেরই সৃষ।টি। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজ মনকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সে নিজ কুপ্রবৃত্তির উপর বিজয় লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি নিজ মনকে নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না নিশ্চিতভাবে সে কুপ্রবত্তির শিকার হবে। মানুষের মনোভাবই পরিশেষে দুরাশার রুপ নেয়। মনের দিক থেকে সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি সে যে দুরাশায় সন্তুষট। কারণ, দুরাশাই হচ্ছে সকল ধরনের আলস্য ও বেকারত্বের পুজি। এটিই পরিশেষে লজ্জা ও আফসোসের মূল কারণ হয়ে দাড়ায়। দুরশাগ্রস্ত ব্যক্তি আলস্যের কারণে যখন বাস্তাবতায় পৌছুতে পারে না তখনই তাকে শুধু আশার উপরই নির্ভর করতে হয়। মূলতঃ বাস্তববাদী হোওয়াই এসমাত্র সাহসীর পরিচয়। মানুষের ভালো মনোভাব আবার চার প্রকারঃ

১. দুনিয়ার লাভার্জনের মনোভাব।

২. দুনিয়ার ক্ষতি থেকে বাচার মনোভাব।

৩. আখিরতের লাভার্জনের মনোভাব।

৪. আখিরাতের ক্ষতি থেকে বাচার মনোভাব।

নিজ মনোভাবকে উক্ত চারের মধ্যে সীমিত রাখাই যে কোন মানুষের একান্ত কর্তব্য। এগুলোর যে কোনটিই মনে জাগ্রত হলে তা অতি তাড়াতাড়ি কাজে লাগানো উচিৎ। আর যখন এগুলোর সব কটিই মনের মাঝে একত্রে জাগ্রত হয় তখন সব চাইতে গুরুত্বপূর্ণটিকেই প্রাধাণ্য দিকতে হবে। যা এখনই না করলে পরে করা আর সমভবপর হবে না। কখনো এমন হয় যেম অন্তরে একটি প্রয়ঢোজনীয় কাজের মনোভাব জাগ্রত হলো যা পরে করলেও চলে: অথচ এরই পাশাপাশি আরেকটি এমন কাজের মনোভাবো অন্তরে জন্মালো যা এখনই করতে হবে। না করলে তা পরবর্তীতে কখনোই করা সম্ভবপর হবে না। তবে কাজটি এতো প্রয়োজনীয় নয়। এ ক্ষেত্র আপনাকে প্রয়োজনীয় বস্তুটিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেউ কেউ অপরটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন যা শরীয়তের মৌলিক নীতি পরিপন্থী।

তবে সর্বোৎকৃষ্ট চিন্তা ও মনোভাব সেটিই যা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি কিংবা পরকালের জন্যই হবে। এ ছাড়া যত চিন্তাভাবনা রয়েছে তা হচ্ছে শয়তানের ওয়াসওয়াসা অথবা ভ্রান্ত আশা।

যে চন্তাফিকির একমাত্র আলআহ তা’আলার জন্য তা আবার কয়েক প্রকারঃ

১. কুর’আন মাজীদের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা এবং তাতে নিহিত আল্লাহ তা’আলার মূল উদ্দেশ্য বুঝতে চেষ্টা করা। ২. দুনিয়াতে আল্লাহ তা’আলার যে প্রকাশ্য নিদর্শনসমূহ রয়েছে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। এরই মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার নাম ও গুনাবলী, কৌশল ও প্রজ্ঞা, দান ও অনুগ্রহ বুঝতে চেষ্টা করবে।কুআরন মাজীদে আল্লাহ তা’আলা এ ব্যাপারে মানুষেকে মনোনিবেশ করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেছেন।

৩. মানুষের উপর আল্লাহ তা’আলার যে অপার অনুগ্রহ রয়েছে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। তার দয়া, ক্ষমা ও ধৈর্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। উক্ত ভাবনাসমূহ মানুষের অন্তরে আল্লাহ তা’আলার একান্ত পরিচয়, ভয়,আশা ও ভালোবাসার জন্ম দেয়।

৪. নিজ অন্তর ও আমলের দোষ ত্রু টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা। এতদ চিন্তা চেতনা খুবই কল্যাণকর। বরং একে সকল কল্যাণের সোপানই বলা চলে।

৫. সময়ের প্রোয়োজন ও নিজ দায়িত্ব নিয়ে চন্তা ভাবনা করা। সত্যিকার ব্যক্তি তো সেই যে নিজ সময়ের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ইমাম শাফি’য়ী (রঃ) বলেনঃ আমি সূফীদের নিকট মাত্র দুটি ভালো কথাই পেয়েছি। যাহচ্ছেঃ তারা বলে থাকে, সময় তলোয়ারের ন্যায়। তুমি তাকে ভালো কাজে নি:শেষ করবে।ব নতুবা সে তোমাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত করবে। তারা আরো বলে, তুমি অন্তরকে ভালো কাজে লাগাবে। নতুবা সে তোমাকে খারাপ কাজেই লাগাবে। মনে কোন চিন্তা ভাবনার উদ্রেক তা ভালো অথবা খারাপ যাই হোক না কেন দোষের নয়। বরং দোষ হচ্ছে খারাপ চিন্তা চেতনাকে মনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ স্থান দেয়া। কারণম আল্লাহ তা’আলামানুষকে দু’টি চেতনা তথা প্রবৃত্তি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। যার একটি ভালো অপরটি খারাপ। একটি সর্বদা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টিই কামনা করে। পক্ষান্তরে অন্যটি গায়রুআল্লাহর সন্তুষ্টিই কামনা করে। ভালোটি অন্তরের ডানে অবস্থিত যা ফেরশতা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। অপরটি অন্তরের বামে অবস্থিত যা শয়তান কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।পরস্পর মধ্যে সর্বদা যুদ্ধ ও সংঘর্ষ অব্যহত। কখনো এর জয় আবার কখনো ওর জয়। তবে সত্যিকারের বিজয় ধারাবাহিক ধৈর্য, সতর্কতা ও আল্লাহভীরুতার উপরই নির্ভরশীল। অন্তরকে কখনো খালি রাখা যাবে না। ভালো চিন্তা চেতনা দিয়ে ওকে ভর্তি রাখতেই হবে। নতুবা খারাপ চিন্তা চেতনা তাতে অবস্থান নিবেই। সৃফীবদীরা অন্তরকে কাশফের জন্য খালি রাখে বিধায় শয়তান সুযোগ পেয়ে তাতে ভালোর বেশে খারাপের বীজ বপন করে। সুতরাং অন্তরকে সর্বদা ধর্মীয় জ্ঞান ও হিদায়াতের উপকরণ দিয়ে ভর্তি রাখতেই হবে।

. মুখ ও বচনঃ কখনো অযথা কথা বলা যাবে না। অন্তরে কথা বলার ইচ্ছা জাগলেই চিন্তা করতে হবেম এতে কোন ফায়দা আছে কি না? যদি তাতে কোন ধরনের ফায়দা না থাকে তা হলে সে কথা কখনো বলবে না। আর যদি তাতে কোন ধরনের ফায়দা থেকে থাকে তাহলে দেখবে, এর চাইতে আরো লাভজনক কোন কথা আছে কি না? যদি থেকে থাকে তাহলে তাই বললবে। অন্যটা নয়। কারোর মনোভাব সরাসরি বুঝা অসম্ভব। তবে কথার মাধ্যমেই তার মনোভাব সম্পূর্ণরুপে বুঝে নিতে হয়।

ইয়াহয়া বিন মু’আয (রঃ) বলেনঃ অন্তর হচ্ছে ডেগের ন্যায়। তাতে যা রয়েছে অথবা দেয়া হয়েছে তাই রন্ধন হতে থাকবে। বাড়তি কিছু নয়। আর মুখ হচ্ছে চামচের ন্যায়। যখন কেউ কথা বলে তখন সে তার মনোভাবই ব্যক্ত করে। অন্য কিছু নয়। যেভাবে আপনি কোন পাত্রে রাখা খাদ্যের স্বাদ জিহ্বা দিয়ে অনুভব করতে পারেন ঠিক তেমনিভাবে কারোর মনোভাব আপনি তার কথার মাধ্যমেই টের পাবেন। মন আপনার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নিয়ন্ত্রক ঠিকই। বে সে আপনার কোন না কোন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের সহযোগিতা ছাড়া যে কোন কাজ সম্পাদন করতে পারে না। সুতরাং আপনার মন যদি আপনাকে কোন খারাপ কথা বলতে বলে তখন আপনি আপনার জিহ্বার মাধ্যমে তার কোন সহযোগিতা করবেন না। তখন সে নিজ কাজে ব্যর্থ হবে নিশ্চয়ই এবং আপনিও গুনাহ কিংবা তার অঘটন থেকে রেহাই পাবেন।

এ জন্যই রাষূল (ছাঃ) ইরশাদ করেনঃ

কোন বান্দাহর ঈমান ঠিক হয় না যতক্ষন না তার অন্তর ঠিক হয়। তেমনিভাবে কোন বান্দাহর অন্তর ঠিক হয় না যতক্ষন না তার মুখ ঠিক হয়। (আহমাদ ৩/১৯৮)

সাধারণত মন মুখ ও লজ্জাস্থানের মাধ্যমেই বেশি অঘটন ঘটায় তাই রাসূল (ছাঃ) কে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো কোন জিনিস সাধারণ মানুষকে বেশির ভাগ জাহান্নামের সম্মুখীন করে তখন তিন বলেনঃ

মুখ ও লজ্জাস্থান। (তিরমিযী ২০০৪: ইবনু মাজাহ ৪৩২২ )

একদা রাসূল (ছাঃ) মু’আয বিন জাবাল (রাঃ) কে জান্নাতে যাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার সহযোগী আমল বলে দেয়ার পর আরো কিছু ভালো আমলের কথা বলেন। এমনকি তিনি সকল ভালো কাজের মূল, কান্ড ও চূড়া সম্পর্কে বলার পর বলেনঃ

আমি কি তোমাকে এমন বস্তু সম্পর্কে বলবো যার উপর এ সবই নির্ভরশীল? আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! আমাদেরকে কথার জন্যো কি পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেনঃ তোমার কল্যান হোক! হে মুআয ! একমাত্র কথার কারনেই বিশেষভাবে সে দিন মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে( তিরমিযী ২৬১৬, ইবনু মাজাহ ৪০৪৪)

অনেক সময় একটিমাত্র কথাই মানুষের দুনিয়া ও আখিরাত এমনকি তার সকল নেক আমল ধ্বংস করে দেয়। জুনদাব বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ছাঃ) ইরশাদ করেনঃ

জনৈক ব্যক্তি বললো: আল্লাআহর কসম আল্লাহ তাআলা ওকে ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: কে সে? যে আমার উপর কসম খেয়ে বলে যে, আমি ওমুককে ক্ষমা করবো না। অতত্রব আল্লাহ তাআলা তার উপর শপথকারীকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ আমি ওকেই ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার সকল নেক আমল ধ্বংস করে দিলাম”। (মুসলিমঃ ২৬২১)

আবু হুরায়রা উক্ত হাদীস বর্ণনা করার পর বলেনঃ

সে সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! লোকটি এমন কথাই বলেছে যা তার দুনিয়া ও আখিরাত সবই ধ্বংস করে দিয়েছে। (আবূ দাউদঃ হাদীস ৪৯০১)

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেনঃ

বান্দাহ কখনো কখনো যাচবিচার ছাড়াই এমন কথা বলে ফেলে যার দরুন সে জাহান্নামে এতদূর পর্যন্ত নিক্ষিপ্ত হয় যতদূর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মাঝের ব্যবধান (বুখারীঃ ৬৪৭৭, মুসলি ২৯৮৮)

রাসূল (ছাঃ) আরো বলেনঃ

তোমাদের কেউ কখনো এমন কথা বলে ফেলে যাতে আল্লাহ তাআলা তার উপর অসন্তুষ্ট হন। সে কখনো ভাবতেই পারেনি কথাটি এমন এক মারাত্মক পর্যায়ে পৌছুবে: অথচ আল্লাহ তাআলা উক্ত কথার দরুনই কিয়ামাত পর্যন্ত তার উপর তার অসন্তুষ্টি অবধারিত করে ফেলেন”। (তিরমিযী ২৩১৯, ইবনু মাজাহঃ ৪০৪০)

উক্ত জটিলতার কারনেই রাসূল (ছাঃ) নিজ উম্মতকে সর্বদা ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

যার আল্লাহ তাআলা ও পরকালের উপর বিশ্বাশ রয়েছে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (বুখারী ০১৮, ৬০১৯, মুসলিমঃ ৪৭, ৪৮)

সালাফে সালিহীনগন আজকের দিনটা ঠান্ডা কিংবা গরম এ কথা বলেও অত্যন্ত সঙ্কোচ বোধ করতেন। এমনকি তাদের জনৈককে স্বপ্নে দেখার পর তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ আমাকে এখনো এ কথার জন্য আটকে রাখা হয়েছে যে, আমি একদা বলেছিলাম: আজ বৃষ্টির কতই ন প্রয়োজন ছিলো! অতএব আমাকে বলা হলো: তুমি এটা কিভাবে বুঝলে যে, আজ বৃষ্টির খুবই প্রয়োজন ছিলো। বরং আমিই আমার বন্দাহর কল্যাণ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। অতএব জানা গেলো, জহ্বার কাজ খুবই সহজ। কিন্তু তার পরিনাম অত্যন্ত ভয়াবহ। সবার জানা উচিৎ যে, আমাদের প্রতিটি কথাই লিপিবদ্ধ হচ্ছে। তা যতই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র হোক না কেন। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ

মানুষ যাই বলুক না কেন তা লিপিবদ্ধ করার জন্য দু জন অতন্দ্র প্রহরী ( ফিরিশতা) তার সাথেই রয়েছে। (ক্বাফঃ ১৮)

মানুষ তার জিহ্বা সংক্রান্ত দুটি সমস্যায় সর্বদা ভুগতে থাকে। একটি কথার সমস্যা। আর অপরটি চুপ থাকার সমস্যা। কারণ, অকথ্য উক্তিউকারী গুনাহগার বক্তা শয়তান। আর সত্য কথা বলা থেকে বিরত ব্যক্তি গুনাহগার বোবা শয়তান।

৪. পদ ও পদক্ষেপঃ সাওয়াবের কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজে পদক্ষেপণ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে যে, কোন ব্যক্তি তার চোখ, মন, মূখ ও পা সর্বদা নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখলে তার থেকে কোন গুনাহ বিশেষ করে ব্যভিচার কর্মটি কখনো প্রকাশ পেতে পারে না। কারণ, দেখলেই তো ইচ্ছে হয়। আর ইচ্ছে হলেই তো তা মূখ খুলে বলতে মনে চায়। আর তখনই মানুষ তা অধীর আগ্রহে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকে। বিচ্যুতি তথা স্খলন যখন দু ধরনেরই তাই আল্লাহ তা’আলা উভয়টিকে কুরাআন মাজীদের মধ্যে একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেনঃ

وَعِبَادُ الرَّحْمَٰنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا

দয়ালু আল্লাহর বান্দাহ ওরাই যারা নম্রভাবে চলাফেরা করে এ পৃথিবীতে। মূর্খরা যখন তাদেরকে (তাচ্ছিল্যভরে) সম্বোধন করে তখন তারা বলে তোমাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ! আমরা সবই সহ্য করে গেলাম; তোমাদের সঙ্গে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব নেই”। (ফুরক্বানঃ ৬৩)

যেমনিভাবে আল্লাহ তা’আলা দেখা ও ভাবাকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ

তিনি চক্ষুর অপব্যবহার এবং অন্তরের গোপন বস্তু সম্পর্কেও অবগত। (মুমিনঃ ১৯)

Check Also

কিয়ামতের আলামত সমূহ (পর্ব-২)

প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, ...

মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *