সালাতের সময়সূচি বর্ণনা

প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, অসীম দয়ালু।

38

মূলঃ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালেহ আল-উসাইমীন অনুবাদ সম্পাদনা : আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁর নিকট সাহায্য চাই। আমরা তাঁর সমীপে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করি, আমরা তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি কুপ্রবৃত্তি ও দুষ্কৃতি থেকে। আল্লাহ যাকে সৎ পথ দেখান, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কেউ সৎ পথে পরিচালিত করতে পারে না।

আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন হক্ক মাবুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আর আল্লাহ তাঁর উপর রহমত নাযিল করুন, তাঁর পরিবার পরিজন, তাঁর সাহাবী ও অনুসারীদের উপর, আর যারা সৎ কাজে তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁদের উপর অনুগ্রহ করুন।

অত:পর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাহদের প্রতি দিনরাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। আল্লাহ তা‘আলার মহান হিকমত ও মহিমা মোতাবেক সে সময়গুলো নিরূপিত হয়েছে। যাতে করে বান্দাহ এ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের নির্ধারিত সময়ে স্বীয় রবের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের নেক নযরে থাকার সুযোগ লাভে সক্ষম হতে পারে। এটা যেন হৃদয়ের জন্য পানি স্বরূপ তরুলতাকে সঞ্জীবিত রাখার জন্য মাঝে মাঝে তাতে পানি সিঞ্চনের প্রয়োজন হয়। এরূপ নয় যে, মাত্র একবার সিঞ্চন করে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। নামাযের সময়কে বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত করায় বান্দাহর উপর তা যেন এক সময়ে আদায়ের কারণে ক্লান্তি ও বোঝা স্বরূপ না হয়। বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা বরকতময়, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞাময়।

সময়সূচির বর্ণনা

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-

﴿وَمَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ ٱلَّذِي ٱخۡتَلَفُواْ فِيهِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ ٦٤﴾ [النحل:64]

“আমি তোমার নিকট এ কুরআন এ জন্য নাযিল করেছি, যাতে তুমি লোকদের নিকট বর্ণনা কর, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য ইহা হেদায়াত ও রহমত স্বরূপ।” [১৬:৬৪]

তিনি আরো বলেন-

﴿وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ ٨٩﴾ [النحل:89]

“আমি তোমার নিকট কিতাব নাযিল করেছি যে, সমুদয় বিষয়ের বর্ণনাকারী এবং সেটা হেদায়ত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ স্বরূপ।” [১৬ : ৮৯]

সুতরাং বান্দারা তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার ব্যাপারে যে সকল বিষয়ে জ্ঞান লাভের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ সমুদয় বিষয় তাঁর কিতাবে অথবা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীসে সবিস্তারে বর্ণনা করে দিয়েছেন। হাদীস হচ্ছে কুরআনের ভাষ্য ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। সাধারণভাবে বর্ণিত বিষয়কে খাসভাবে চিহ্নিত করেছে এবং ব্যাপকভাবে বর্ণিত বিষয়গুলোকে হাদীস সীমিতভাবে চিহ্নিত করে দেয়। বস্তুত কুরআনের একটি আয়াত অন্যটির জন্য বর্ণনা ও ব্যাখ্যা স্বরূপ এবং স্থানে স্থানে সংক্ষিপ্তকে বিস্তৃত, ব্যাপককে সীমিত, সাধারণভাবে বর্ণিত বিষয়কে বিশেষ ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটেই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন-

জেনে রাখ! আমাকে কুরআন এবং তার অনুরূপ একটি বিষয় প্রদান করা হয়েছে। [আহমদ: ৪/৩১; আবু দাউদ: ৪০৬৪]

এর সনদ সহীহ। উল্লেখিত কানুনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়সূচির বর্ণনা অন্যতম, যে নামাযগুলো শারীরিক আমলের মধ্যে ফরয হিসেবে করা হয়েছে এবং মহামহীম আল্লাহ তা‘আলার নিকট অতীব প্রিয়। আল্লাহ তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদীসে সময় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:

﴿أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ لِدُلُوكِ ٱلشَّمۡسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيۡلِ وَقُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِۖ إِنَّ قُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِ كَانَ مَشۡهُودٗا ٧٨﴾ [الإسراء:78]

“নামায কায়েম কর, সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার আচ্ছন্ন হওয়ার সময় পর্যন্ত, আর ফজরের কুরআন পাঠ (এর সময়); নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠের সময় ফেরেশতা উপস্থিত থাকে।” (১৭ : ৭৮)

এতে আল্লাহ পাক তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে আদেশ করেছেন, আর এ আদেশের অর্থ হলো তাঁর সাথে, তাঁর উম্মতের উপর এ নির্দেশ। সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির নিবিড় অন্ধকার আচ্ছন্ন হওয়ার সময় পর্যন্ত, আর এ অন্ধকার অর্ধরাত্রিতে হয়ে থাকে।

অত:পর পৃথকভাবে বর্ণনা করে বলেন:

﴿ وَقُرۡءَانَ ٱلۡفَجۡرِۖ ﴾ [الإسراء:78]

“আর ফজরে কুরআন পাঠ কর” এর অর্থ হলো ফজরের নামায। আর ফজরের নামাযকে কুরআন দ্বারা ব্যাখ্যার কারণ হলো এতে কুরআনের পাঠ দীর্ঘায়িত করা হয়।

﴿لِدُلُوكِ ٱلشَّمۡسِ إِلَىٰ غَسَقِ ٱلَّيۡلِ﴾ [الإسراء:78]

“সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার সময় হতে রাত্রির অন্ধকার আচ্ছন্ন হওয়ার সময় পর্যন্ত” আল্লাহ এ পবিত্র বাণীতে চার ওয়াক্ত নামাযের সময়সূচি বর্ণনা করেছেন। সেগুলো হচ্ছে যোহর ও আসরের সালাত, আর উভয় সালাতই দিবসের শেষার্ধের নামায এবং মাগরিব ও ইশার সালাত, যা রাতের প্রথমার্ধের নামায। পক্ষান্তরে “ফজরের নামাযের কুরআন পাঠ” এ পবিত্র কালাম দ্বারা ফজরের সময় পৃথকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। “আল-ফজর” শব্দটির দ্বারা নির্ধারিত সময়ের কথা বলা হয়েছে। আর সেটি হলো: পূর্বাকাশে সূর্যের আলোকচ্ছটা প্রকাশিত হওয়ার সময়।

বস্তুত আল্লাহ তা‘আলা চারটি সময় একত্রিত করেছেন, কেননা সময়গুলো একটি অপরটির সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। একটি নামাযের সময় শেষ হতে না হতেই অপরটি উপস্থিত হয়। আর ফজরের সময়টি পৃথকভাবে এজন্য বর্ণিত হয়েছে যে, তার সাথে আগে পিছের সময়ের কোন সম্পর্ক নেই। কেননা, ইশার ও ফজরের নামাযের মধ্যে প্রতিবন্ধক হচ্ছে দিনের মধ্যভাগ, যেমন তা হাদীসের আলোকে বর্ণিত হবে ইন্‌শা আল্লাহ।

পক্ষান্তরে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইব্‌নুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন- “যোহর নামাযের ওয়াক্ত তখন শুরু হয় যখন সূর্য ঢলে পড়ে, আর প্রত্যেক মানুষের ছায়া তার সমান দীর্ঘ হওয়া পর্যন্ত আসরের ওয়াক্ত উপস্থিত হয় না। আর আসরের নামাযের সময় সূর্য হলুদ না হওয়া পর্যন্ত, আর মাগরিবের সময় সূর্য অস্ত যাওয়া থেকে তার লালিমা বাকি থাকা পর্যন্ত এবং ইশার নামাযের সময় থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের ওয়াক্ত সূবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত। অন্য বর্ণনায় আছে, ইশার নামাযের সময় অর্ধরাত্রি পর্যন্ত। [মুসলিম:২১৬]

সহীহ মুসলিমে আবু মূসা আশ‘আরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন-জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর খেদমতে এসে নামাযের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তার প্রশ্নের কোন উত্তর দিলেন না। (বর্ণনাকারী) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুবহে সাদিক হওয়ার পর ফজরের নামায আরম্ভ করেন, সে সময় মানুষ একে অপরকে চিনতে পারছিল না। অত:পর তিনি তাকে অর্থাৎ বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে -যেমন নাসায়ী শরীফের বর্ণনায় আছে- আদেশ দিলেন, অত:পর তিনি কায়েম করেন যোহরের নামায, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহরের নামায আরম্ভ করেন সূর্য ঢলে পড়ার পর ঐ সময়ে, কোন কোন লোক বলছিল যে, “দিনের মধ্যাহ্ন সময় হয়েছে” অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মাঝে নামাযের সময় সম্পর্কে অধিক অবহিত। তিনি আবার বেলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)কে আদেশ দেন, অত:পর তিনি কায়েম করেন আসরের নামায, আর সূর্য তখন বেশ উঁচুতে ছিল। অত:পর তিনি বেলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে মাগরিবের নামায কায়েম করার আদেশ দেন যখন সূর্য অস্ত যায়। – নাসায়ী শরীফের এক বর্ণনায় “ওকা‘আত” এর স্থলে “গারাবাত” আছে তবে অর্থ একই।- পরে তিনি পশ্চিমাকাশের লালিমা মিটে যাওয়ার পর বেলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে ইশার নামাযের ইকামাত দেয়ার আদেশ দেন। দ্বিতীয় দিন তিনি ফজরের নামায এতটা দেরী করে আদায় করেন যে, নামায শেষে কোন ব্যক্তি বলছিল যে, সূর্য উদিত হয়ে গেছে অথবা উদিত হওয়ার নিকটবর্তী হয়েছে। বিগত দিনের প্রায় আসরের সময় পর্যন্ত দেরী করে যোহর আদায় করেন। আবার আসরের নামায এতটা দেরী করে আদায় করেন যে, নামায শেষে একজন বলে উঠে যে, সূর্য লার বর্ণের হয়ে গেছে। মাগরিবের নামায এতটা দেরী করে আদায় করেন যে, পশ্চিমাকাশের রঙিন আভা প্রায় মিটে যায়। অতঃপর সকাল হলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশ্নকারীকে ডেকে বলেন, “নামাযের সময় হলো-এ দু’সময়ের মধ্যবর্তী সময়।” [মুসলিম:৩২৫]

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় কুরআন মজীদের আয়াত ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদীস দ্বারা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

– যোহরের নামাযের সময় শুরু হয় সূর্য ঢলে পড়লে, অর্থাৎ আকাশের মাঝ দিয়ে পার হওয়ার পর, তা ততক্ষণ থাকে যতক্ষণ না প্রতিটি বস্তুর ছায়া সে বস্তুটির অনুরূপ না হয়। তবে যে ছায়াটি পড়ার পর সূর্য ঢলে যায় তা থেকে তার শুরু কার্যকর হয়।

এর ব্যাখ্যা হচ্ছে, সূর্য যখন উদিত হয়, তখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া অতি লম্বা দেখায়, অত:পর ক্রমান্বয়ে ছায়াটি ছোট হতে থাকে যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ে; তারপর যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ে আবার ছায়াটি লম্বা হতে আরম্ভ করে, আর তখনই যোহরের সালাতের সময় প্রবেশ করে। সুতরাং যখন থেকে ছায়া আবার লম্বা হতে শুরু করে তখন থেকে নির্ধারণ করতে হবে, অতঃপর যখন কোন বস্তুর ছায়া সেটার অনুপাত হবে তখনই যোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে।

– আসরের নামাযের সময় হলো প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমান হওয়া থেকে শুরু করে সূর্য হলুদ বর্ণ বা লাল বর্ণ হওয়া পর্যন্ত।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস অনুযায়ী প্রয়োজনবোধে আসরের সময় সূর্যাস্ত পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি ফজরের নামাযের এক রাকাআত সূর্যোদয়ের পূর্বে পেয়েছে, সে যেন ফজরের নামায পেয়েছে এবং যে ব্যক্তি আসরের নামাযের এক রাকাআত সূর্যাস্তের পূর্বে পেয়েছে সে যেন আসরের নামায পেয়েছে। [বুখারী: ৯৭৫ ; মুসলিম: ৮০৬]

. মাগরিবের নামাযের সময় হলো সূর্যাস্তের পর পশ্চিমাকাশে লালিমা অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত।

. ইশার নামাযের সময় লালিমা মিটে যাওয়ার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত, সুবহে সাদিক পর্যন্ত নয়। কেননা, এটা কুরআন ও হাদীসের বিরোধী। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন। “নামায কায়েম করো সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়া থেকে রাত্রির অন্ধকার আচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত।” আর একথা বলেন নি যে ফজর পর্যন্ত। হাদীস শরীফে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইশার নামায মধ্যরাত পর্যন্ত, যেমনভাবে আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

. ফজরের নামাযের সময় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। আর সুবহে সাদিক হলো- পূর্বাকাশের ঐ লম্বা সাদা রেখা, যার পরে আর কোন অন্ধকার থাকে না। এ হচ্ছে নির্ধারিত সময়সূচি।

“এই নির্ধারিত সময়গুলো ঐ সকল স্থানের জন্য প্রযোজ্য যেখানে চব্বিশ ঘন্টা দিন-রাত হয় চাই রাত-দিন সমান হোক অথবা কমবেশী হোক।

কিন্তু যে সকল স্থানে চব্বিশ ঘন্টায় রাত-দিন আসে না, সেসব স্থানের দুটি অবস্থা হয়; এক. সে অবস্থাটি সারা বছর বিরাজমান থাকবে অথবা বছরের কিছু অংশে থাকবে। যদি বছরের কিছু অংশ এ রূপ হয়, যেমন এ সকল স্থানে বছরের বিভিন্ন ঋতুতে রাত-দিনের স্থিতিকাল চব্বিশ ঘন্টা, কিন্তু কোন কোন ঋতুতে সেখানে রাতের স্থিতিকাল চব্বিশ ঘন্টা কিংবা ততোধিক এবং দিনের অবস্থাও অনুরূপ হয়। তাহলে এমতাবস্থায় চব্বিশ ঘন্টা দিন কিংবা রাত্রি শুরু হওয়ার আগের দিন অনুসারে সালাতের সময় নির্ধারিত হবে। যেমন যদি ধরে নেই যে, চব্বিশ ঘন্টা রাত-দিন শুরু হওয়ার আগে রাত ছিল বিশ ঘন্টা আর দিন ছিল চার ঘন্টা, এমতাবস্থায় চব্বিশ ঘন্টা রাত-দিন শুরু হওয়ার পর বিশ ঘন্টা হবে দিন, আর চার ঘন্টা হবে রাত। আর সেটা অনুসারে সকল নামাযের সময় আগের মতই নির্ধারণ করে নেব।

আর যদি সে সকল স্থানে এমন হয় যেখানে বছরের সব ঋতুতেই রাত দিনের স্থিতিকাল চব্বিশ ঘন্টা হয় তাহলে সময় অনুপাতে নামাযের ওয়াক্ত স্থির করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সহীহ মুসলিমে একখানি হাদীস রয়েছে নাওয়াস বিন সাম‘আন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত-দাজ্জাল পৃথিবীতে কত দিন অবস্থান করবে সাহাবীগণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন চল্লিশ দিন। প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান। দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের সমান। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান। আর বাকী দিনগুলো হবে তোমাদের এদিনগুলোর মত। তখন তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর রাসূল ! যে দিনটি এক বছরের সমান হবে ওতে একদিনের নামায পড়া কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন- না! এদিনটিকে সাধারণ দিনের সমান অনুমান করে নিও।”

যখন একথা প্রমাণিত হয়ে গেল যে, যে স্থানে দিন রাতের আগমন নির্গমন হয় না সেখানে অনুমান করে সময় নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে কিভাবে নির্ধারিত করতে হবে?

কতিপয় আলিমের অভিমত হলো: সেটি স্বাভাবিক সময় দিয়ে নির্ধারণ করতে হবে। বার ঘন্টায় রাত ধরতে হবে। তেমনিভাবে দিনও। কারণ সময় নির্ধারনের ক্ষেত্রে যখন খোদ সেই স্থানটিকে ধরা যাচ্ছে না তখন ঐ স্থানের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক স্থানগুলোর উপর কিয়াস করতে হবে। যেমন মুসতাহাযা মহিলা

(রক্তপ্রদর রোগিনী) যার স্বাভাবিক ও নির্দিষ্টভাবে রক্তস্রাব হয় না  [১]

অপরদিকে কতিপয় আলিম বলেন, ঐ স্থানে নিকটতম দেশের সময় অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে; কারণ যখন স্বয়ং সেই স্থানটিকে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করা কষ্টকর তখন তার সবচেয়ে নিকটবর্তী স্থানকে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আর সেটি হলো সেই স্থানের নিকটতম দেশ যেখানে চব্বিশ ঘন্টায় রাত দিন হয়। এই উক্তিটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য। কারণ এটি যুক্তির নিরিখে বলিষ্ঠতর এবং বাস্তবতার নিকটতর। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।”

[১] কারণ, রক্তপ্রদর রোগিনী যদি তার হায়েয ও রক্তপ্রদরের মধ্যে পার্থক্য করতে না পরে, তবে তার হায়েয এর সময় তার সমবয়সী ও সম সমস্যাগ্রস্থ বা তার পূর্বের আসল অভ্যাসমত অথবা ছয় কিংবা সাত দিন নির্ধারণ করতে হয়। [সম্পাদক]

 

Check Also

ডেঙ্গু জ্বর থেকে বাচার উপায়

ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ বেড়েছে। এডিস মশার কারণেই ছড়ায় ডেঙ্গু। তাই ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ রোধে সচেতন ...

মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *