কোরআন ও সুন্নায় সালামের গুরুত্ব ও আদব

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

অভিবাদন দিয়েই কথা শুরু হয়ে থাকে। সংস্কৃতি, ভৌগলিক অবস্থান, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবহাওয়া অনুযায়ী একেক মানবগোষ্ঠীতে একেক রকমের অভিবাদন প্রচলিত আছে। পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ইসলাম আমাদেরকে এমন একটি অভিবাদন শিক্ষা দিয়েছে, যা যে কোনো জায়গায় যে কোনো সময় ব্যবহার করা যায়।

ইসলামী অভিবাদন হলো اسلام عليكم বলা। বাংলা উচ্চারণ হলো “আসসালামু ‘আলাইকুম”। এর অর্থ “আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।”

সালাম হলো ঈমানের অঙ্গ এবং জান্নাতে প্রবেশের একটি রাস্তা।

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “সেই সত্ত্বার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তোমরা ততক্ষণ (পূর্ণাঙ্গ) ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন কিছু বলে দেবো যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? নিজেদের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও।” (সাহীহ মুসলিম, ১ম খণ্ড)

সালাম হলো মুসলিমদের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার মূল। সালাম প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করে আমাদের সম্মানিত করা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত এই দায়িত্বের হক আদায় করা ও এর পবিত্রতা রক্ষা করা। ইসলামী এই অভিবাদনের নিয়ম-কানুন আমাদের জানা থাকা উচিত।

ইনশাআল্লাহ এই প্রবন্ধে সালাম আদান-প্রদানের কিছু আদব আলোচিত হবে।

১। উত্তম অথবা একইরকম জবাব দেওয়া

আল্লাহ আমাদের আদেশ করেছেন অভিবাদনের জবাব যেন তার চেয়ে সুন্দরভাবে অথবা সমান পরিমাণে দেই। তিনি বলেন,

“যখন তোমাদেরকে অভিবাদন করা হয়, তোমরাও অভিবাদন জানাও তারচেয়ে উত্তমভাবে অথবা তারই মতো করে ফিরিয়ে দাও।” [সূরা নিসা (৪):৮৬]

বেশিরভাগ আলেমগণের মতে “আসসালামু ‘আলাইকুম” এর জবাবে বলা উচিত “ওয়া’আলাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ”। “আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ”র জবাবে বলতে হবে “ওয়া’আলাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”। “আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”র জবাবে এর চেয়ে উচ্চস্বরে ও আনন্দিত স্বরে বলতে হবে “ওয়া’আলাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”।

নিম্নের হাদীস থেকে বোঝা যায় সালামের সাওয়াব বৃদ্ধি পায়।

ইমরান বিন হুসাইন বর্ণনা করেন, “এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) কাছে এসে বললো আসসালামু ‘আলাইকুম। তিনি (সাঃ) বললেন, ‘দশ।’ আরেক ব্যক্তি এসে বললো আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। তিনি (সাঃ) বললেন, ‘বিশ।’ আরেক ব্যক্তি এসে বললো আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। তিনি বললেন, ‘ত্রিশ।’” (জামে তিরমিযী)

২। সঠিক উচ্চারণ

বিশেষ করে অনারবদের উচিত এই বিষয়টা খেয়াল রাখা। “আলাইকুম” এর প্রথম অক্ষরটি হলো ع। সালাম বলা ও লেখার ক্ষেত্রে আমাদের উচিত উচ্চারণ ও বানানের প্রতি খেয়াল রাখা। “স্লামালেকুম”, “আস্লামালেকুম” সহ যতরকম ভুলভাল উচ্চারণ প্রচলিত আছে, তা সজ্ঞানে বর্জন করা উচিত।

৩। তোতাপাখির মতো না আউড়ে অনুভব করে বলা

আরব-অনারব নির্বিশেষে সকল মুসলিমই আরবিতে সালাম দেয়। সালাম একটি দু’আ। আমরা যাকে সালাম দিচ্ছি, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষণের জন্য দু’আ করছি। কিন্তু সালামের অর্থ না বুঝে সালাম দেওয়ার কারণে এর মধ্যকার আবেগটা হারিয়ে যায়। অনেকেই এটাকে হাই-হ্যালোর একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে। সালাম তার আবেদন হারিয়ে এভাবেই কালচারের অংশ হয়ে গেছে।

“আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”র অর্থ “আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।” পরেরবার থেকে যখন কাউকে সালাম দেবেন, এর অর্থ অন্তরে অনুভব করে দেবেন।

৪। পরিচিত ও অপরিচিত সকল মুসলিমকে সালাম দেওয়া

সালাম আমাদের দ্বীনের শ্রেষ্ঠ জিনিসগুলোর একটি। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বর্ণনা করেন, “রাসুলকে (সাঃ) এক লোক জিজ্ঞাসা করলো, ‘ইসলামের কোন কাজটি সর্বশ্রেষ্ঠ?’ তিনি (সাঃ) বললেন, ‘মানুষকে আহার করানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেওয়া।’” (সাহীহ বুখারি)

৫। সালাম দেওয়ার সময় মুসাফাহা করা

বারা ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “দুজন মুসলিম সাক্ষাৎ করে মুসাফাহা করলে তারা পৃথক হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সুনান ইবনে মাজাহ)

উপরের হাদীস থেকে দলীল দিয়ে আলেমগণ বলেন সালাম দেওয়ার সাথে সাথে (সমলিঙ্গের) মুসলিমের সাথে হাত মেলানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ।

৬। সাধারণ আদবসমূহ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “বাহনে আরোহী ব্যক্তি আগে পদচারী ব্যক্তিকে সালাম দেবে, হাঁটা ব্যক্তি বসা ব্যক্তিকে আগে সালাম দেবে, ছোট দল আগে বড় দলকে সালাম দেবে।” (সাহীহ বুখারি)

সর্বোপরি অপর মুসলিম ভাইকে সালাম দেওয়া আমাদের দায়িত্ব আর সালামের জবাব দেওয়া আমাদের উপর তাদের অধিকার।

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের পাঁচটি অধিকার রয়েছে। সালামের জবাব দেওয়া, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, জানাযার সাথে শরিক হওয়া, দাওয়াত কবুল করা ও হাঁচি দিলে আলহামদুলিল্লাহ বলা।” (রিয়াদ্বুস সলিহীন, ৭ম খণ্ড)

মোটকথা হলো, সালাম ইসলামের একটি চিহ্ন এবং এটি মুসলিমদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বকে মজবুত করে। আসুন সালামের আদবসমূহ ঠিক রাখার মাধ্যমে এর সর্বোচ্চ ফযিলত আদায় করে নেই।

আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক! মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের শ্বাশত বাণী ছড়িয়ে দিন। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিভিন্ন লেখা ফেসবুক, টুইটার, ব্লগ ইত্যাদি ওয়েবসাইটে শেয়ার করুন এবং সকলকে জানার সুযোগ করে দিন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে -এ লাইক করুন

Check Also

ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যুর পূর্ব অবস্থা | Bangla waz audio

 প্রবন্ধটি পড়া হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না। শুরু করছি মহান আল্লাহর নামে যিনি পরম করুনাময়, ...

মন্তব্য করুন

Loading Facebook Comments ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *